জ্বালানি তেল উত্তোলন হ্রাসের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে পারে ওপেক প্লাস

বিশ্বের প্রায় অর্ধেক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করে ওপেক প্লাস। পণ্যটির দাম সমর্থনের উদ্দেশ্যে জোটটি বেশ কয়েক বছর ধরে উত্তোলন কমিয়ে রেখেছিল।

বিশ্বের প্রায় অর্ধেক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করে ওপেক প্লাস। পণ্যটির দাম সমর্থনের উদ্দেশ্যে জোটটি বেশ কয়েক বছর ধরে উত্তোলন কমিয়ে রেখেছিল। তবে চলতি বছর নীতি পাল্টে বাজার হিস্যা পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছে সংগঠনটি। সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বেচ্ছায় উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে পারে এ জোটভুক্ত দেশগুলো। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বর্ধিত উত্তোলন কোটা কার্যকর হতে পারে। সংশ্লিষ্ট পাঁচ সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পেট্রলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন। এটিও উত্তোলন হ্রাসের পুরোপুরি তুলে নেয়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্যান্য সহযোগী দেশ নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জোটটি দৈনিক প্রায় ২১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল উত্তোলন হ্রাসের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার শুরু করে। এপ্রিলে জোটভুক্ত দেশগুলো দৈনিক ১ লাখ ৩৮ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। মে, জুন ও জুলাইয়ে দৈনিক ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল করে উত্তোলন বাড়ানো হয়। এমনকি গত শনিবার আগস্টের জন্য দৈনিক ৫ লাখ ৪৮ হাজার ব্যারেল করে জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।

এছাড়া গতকাল কিছু সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৩ আগস্টের বৈঠকে সেপ্টেম্বরের জন্য দৈনিক প্রায় ৫৫ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির অনুমোদন দেয়ার সম্ভাবনা আছে। এতে আটটি সদস্য রাষ্ট্রের দৈনিক ২১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে।

এদিকে ইউএইর জন্য অতিরিক্ত দৈনিক তিন লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর অনুমতি দেয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত ওপেক ও ইউএইর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আগস্টে ওপেক প্লাসের উত্তোলন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে উদ্বেগের কারণে গতকাল কেনাবেচার শুরুতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে গিয়েছিল। তবে সরবরাহ সংকটের কারণে পরবর্তী সময়ে তা আবার বেড়ে যায়।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল প্রথমে ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলার ২২ সেন্টে নেমে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ৪০ সেন্ট বা দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যালেপ্রতি মূল্য স্থির হয় ৬৮ ডলার ৭০ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলার ৪০ সেন্টে নেমে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই ৬৬ ডলার ৬৩ সেন্টে বেচাকেনা হয়। যদিও এটি আগের দিনের তুলনায় ৩৭ সেন্ট বা দশমিক ৬ শতাংশ কম।

এ বিষয়ে ফিলিপ নোভার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াংকা সচদেবা বলেন, ‘২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক জ্বালানি তেলের বাজারে এখনো মূল উদ্বেগ। ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়ার কারণে তা স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি তেলের দামে সমর্থন পাচ্ছে।’

আরও